জুন ১৩, ২০২৪

আমাদের সম্পর্কে আরো জানুনঃ

‘আতঙ্ক না ছড়াই, সতর্ক থাকি, সাহায্য করি’

‘করোনার যুদ্ধ করবো জয়, ঘরের বাইরে আর নয়’। ‘ঘন ঘন হাত ধুই, করোনা থেকে নিরাপদ রই’-করোনাভাইরাস সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতেই এমন নানা ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে অদৃশ্য এই শত্রুর মোকাবিলায় দেশজুড়ে জনগণকে সচেতন করে তুলছে সেনাবাহিনী। তাদের টহল গাড়িতেও দেখা মিলছে ‘পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন করুন’ লেখা সংবলিত স্টিকার।

দেশে বন্যা, আগুন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মোকাবিলা- যে কোনো বিপদে ডাক পড়লেই পাশে বন্ধুর মতো এসে দাঁড়ায় সেনাবাহিনী। আবার বিদেশের মাটিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্য হিসেবে বিশ্বের নানা প্রান্তে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন বন্ধু হেলমেটধারী বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা। বিশ্ব শান্তি রক্ষায় অনেকে জীবনও উৎসর্গ করেছেন। এবারও দেশে করোনাভাইরাস মোকাবিলায়ও দৃঢ়প্রত্যয় নিয়ে মাঠে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন সেনাসদস্যরা। কোনো ধরনের বিতর্ক ছাড়াই এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনী তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব শুরু থেকেই পালন করে আসছে।

শুধু যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা নয়, সেনাবাহিনী জাতীয় জীবনের যে কোনো সংকটকালে সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করে আসছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে একটি ভিন্নধর্মী প্রতিকূল পরিবেশেও সেনাবাহিনী দেশকে বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ সর্বশেষ ১ এপ্রিল সচিবালয়ে একটি সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানান, যতদিন প্রয়োজন ততদিন সেনাবাহিনী মাঠে থেকে কাজ করবে। যত প্রয়োজন তত সেনা সদস্য কাজ করবে। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত মোতায়েন করে অযথা প্যানিক সৃষ্টি করার দরকার নেই।

সেনাপ্রধান বলেন, প্রধানমন্ত্রী করোনাভাইরাসকে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন। আমরা সৈনিক, তাই আমরা যুদ্ধ করতে প্রস্তুত। মাঠপর্যায়ে শুধু সেনাবাহিনী নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিভিল প্রশাসন ও অন্য সবাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তার নেতৃত্বে কাজ করছি। আগামীতেও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করব।

বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের বর্তমানে বাংলাদেশের সংক্রমণ এবং বিস্তৃতির ঝুঁকি বিবেচনায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। গত ২৪ মার্চ থেকে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের পর ২৫ মার্চ থেকে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে সেনাবাহিনী। দেশজুড়ে সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাধারণ জনগণকে উৎসাহিত করতে কাজ করছেন সেনাসদস্যরা। পাশাপাশি তারা বিদেশফেরত ব্যক্তিদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনের বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করছে। সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত হাজার সেনাসদস্য ৬২টি জেলায় করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন ৫৫০-৬০০ টিমে ভাগ করে তারা নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে।

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের অনেক চিকিৎসক রোগীদের সেবা না দিয়ে হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকেন। চিকিৎসা খাতে নানা অব্যবস্থাপনা অনেক রোগী বিনা চিকিৎসায় মারা যান। এমন সংকটকালে অনেক চিকিৎসক চিকিৎসাসেবা দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। অনেক হাসপাতালে গেটে তালা ঝুলতেও দেখা যায়। করোনা সংক্রমণ ছাড়াও অন্য রোগীকে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে ছুটতে দেখা যায় স্বজনকে। এমন পরিস্থিতিতে যেখানে চিকিৎসা সংকট, সেখানেই জরুরি চিকিৎসাসেবা নিয়ে হাজির হচ্ছেন সেনাসদস্যরা। এরই মধ্যে একাধিক এলাকায় ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা ক্যাম্প করেছেন সেনাসদস্যরা। ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা সহায়তা ক্যাম্পে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গরিব ও দুস্থ নারী-পুরুষকে ব্যবস্থাপত্র ও বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনীর ভ্রাম্যমাণ এই স্বাস্থ্য ক্যাম্প থেকে মাইকে করোনা জনসচেতনতা সৃষ্টির প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।

করোনা মোকাবিলায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নানা মাত্রিক কৌশল ব্যবহার করে জনগণকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন নির্ভীক সেনাসদস্যরা। একদিকে ফুল হাতে দিয়ে প্রত্যেককে ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন তারা। অন্যদিকে দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন খাবার সামগ্রী। জেলায় জেলায় ব্যবসায়ীদের মাঝে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন তারা। করোনাভাইরাসের ক্ষতিকর দিক ও ভালো থাকার উপায় সম্পর্কে তারা সবাইকে জানাচ্ছেন। বিভিন্ন জায়গায় তারা মাস্ক ও গ্লাভস হস্তান্তরও করছে। আবার আকাশপথে সেনাসদস্যদের কাছে নানা ধরনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে আর্মি এভিয়েশন।

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সেনা টহল জোরদার করা হচ্ছে। অলিগলিতে সেনাসদস্যরা যাচ্ছেন। সেখানে রাস্তায় কাউকে দেখলেই বাইরে বের হওয়ার কারণ জানতে চান। কোথাও জটলা দেখলে তা ভেঙে দেন তারা। কারও মাস্ক না থাকলে তা সরবরাহ করা হচ্ছে। নির্ধারিত পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিকে দিয়ে সড়কে বের হওয়া গাড়ির চারপাশে তাদের জীবাণুনাশক ছিটানোর দৃশ্যও চোখে পড়েছে হরহামেশাই। পেশাগত দায়িত্ব পালনে তারা নিজেরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুরক্ষিত থাকছেন, আর জনসাধারণকে সুরক্ষিত থাকার কৌশলও বাতলে দিচ্ছেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লে. কর্নেল আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ  বলেন, করোনা মোকাবিলায় সরকারের নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। যেখানে লকডাউন দরকার তা সেনাবাহিনী যথাযথভাবে কার্যকরও করছে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
Pinterest
Reddit