আমরা পর্যাপ্ত রিজার্ভ হাতে রেখেই সব কাজ করছি: প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়ন বার্তা ডেস্ক:
আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রিজার্ভের কোনো সমস্যা নেই। আমাদের সব ব্যাংকেই পর্যাপ্ত টাকা রয়েছে। সামনের দিনেও কোনো সমস্যা হবে না।
বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোর শহরের শামস-উল হুদা স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগের জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
সমালোচকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকে এখন রিজার্ভ নিয়ে নানা সমালোচনা করছে। অথচ আওয়ামী লীগ সরকার রিজার্ভ রেকর্ড পরিমাণ বাড়িয়েছে। আর কোনো সরকার রিজার্ভ বাড়াতে পারেনি। আমরা পর্যাপ্ত রিজার্ভ হাতে রেখেই সব কাজ করছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রিজার্ভ নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা শুনছি। অনেকে প্রশ্ন করেন রিজার্ভ গেলো কোথায়? আমরা তো রিজার্ভের অপচয় করিনি। মানুষের কল্যাণে কাজে লাগিয়েছি। জ্বালানি তেল কিনতে হয়েছে, খাদ্যশস্য কিনেছি। বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। করোনা টিকা এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেছি। এসব কাজে রিজার্ভ থেকে খরচ করতে হয়েছে। কারণ আমরা মানুষের কথা চিন্তা করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছি। সরকারপ্রধান বলেন,যারা জানতে চান রিজার্ভ কোথায় গেলো, তাদের বলছি, রিজার্ভ কোথাও যায়নি। মানুষের কাজে লেগেছে। যেহেতু যুদ্ধ লেগেছে, সবকিছুর দাম বেড়েছে। তারপরও আমরা খরচ করছি, আমদানি করছি; যাতে দেশের মানুষের খাদ্যে ঘাটতি না হয়। কাউকে যেন সমস্যায় পড়তে না হয়। তিনি বলেন, দেশের সব মানুষকে বলে দিয়েছি, কোনো জমি যাতে খালি রাখা না হয়। পারলে একটা মরিচ গাছ লাগান, টমেটো গাছ লাগান। এটি আমাদের সবার উপকারে আসবে।
যশোরে জনসভা করতে পেরে আনন্দিত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই যশোরে আমার নাড়ির টান আছে। এখানের মাটিতে আমার নানা শেখ জহুরুল হক শুয়ে আছেন। তিনি যশোরে চাকরি করতেন। আমার মায়ের বয়স যখন তিন বছর, তখন তিনি মারা যান। ওই সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা এতই খারাপ ছিল যে এখানে আসা যায়নি। আমার নানাকে এখানে দাফন করা হয়েছে। এখানে আমার নানার স্মরণে আইটি পার্ক করা হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সময়ে দেশে ৪০ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করত। আমরা তা ২০ ভাগে নামিয়ে এনেছি। হতদরিদ্র মানুষ ছিল ২৫ ভাগ। তা আমরা ১০ ভাগে কমিয়ে এনেছি। কারণ, আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের জন্য কাজ করে।’ যশোরের ভবদহ সমস্যার সমাধানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রথম প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। এখন দ্বিতীয় প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এক লাখ ২০ হাজার হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা নিরসন হবে।’ এ ছাড়া অভয়নগরে ৫০০ একর জমিতে ইপিজেড নির্মাণ এবং মনিরামপুরে দারিদ্র্য বিমোচনে জহুরুল হকের নামে পল্লী একাডেমি নির্মাণ করা হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য বলেন। আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ‘বারবার আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। জনগণের সেবা করার জন্যই বোধ হয় আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।’
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘খেলা হবে। খেলা হবে বিএনপির বিরুদ্ধে। খেলা হবে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে। খেলা হবে হাওয়া ভবনের বিরুদ্ধে। বিএনপির আরেক নাম বাংলাদেশ নালিশ পার্টি।