কাশ্মীরে জি-২০ সম্মেলন শুরু

চীন ও পাকিস্তানের আপত্তি সত্ত্বেও ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরে শুরু হয়েছে জি-২০ সম্মেলন। সোমবার শুরু হওয়া জি-২০-এর পর্যটনবিষয়ক কমিটির প্রতিনিধিদের এ সম্মেলন চলবে বুধবার পর্যন্ত।  জি-২০ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে শ্রীনগরের ডাল লেকসংলগ্ন শের-ই-কাশ্মীর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে। আশপাশের এলাকা নানাভাবে সাজানো হয়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা, জি নিউজ।

এই সম্মেলনে ভারতের পক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত হর্ষবর্ধন শ্রীংলা জানিয়েছেন, জি-২০ সম্মেলন আয়োজক দেশ হিসাবে ভারতে নানা পর্যায়ে মোট ১১৮টি বৈঠক হবে। দেশের নানা প্রান্তে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেপ্টেম্বরে শীর্ষ বৈঠক দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এই সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিদেশি অতিথিদের নিরাপত্তার দিকটি মাথায় রেখে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সেখানকার স্কুল।

নিরাপত্তায় নামানো হয়েছে সামরিক বাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাকেও (এনআইএ)। রোববার কূপওয়াড়াসহ কাশ্মীরের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে জঙ্গিদের চর সন্দেহে কয়েক জনকে গ্রেফতার করছে এনআইএ।

২০১৯ সালে স্বায়ত্তশাসিত মর্যাদা বাতিলের পর জি-২০ সম্মেলনকে কাশ্মীরে আয়োজিত সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান হিসাবে উল্লেখ করা হচ্ছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহেই এ সম্মেলনে যোগ দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ সম্মেলন নিয়ে তাদের আপত্তির কথা জানায়।

এবারের সম্মেলনে ২৫টি দেশের ১৫০ জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন বলে এক প্রতিবেদনে জি নিউজ জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ সম্মেলনে চীনের পাশাপাশি তুরস্ক ও সৌদি আরবও অংশ নিচ্ছে না।

গ্রুপ অব টোয়েন্টি ফিন্যান্স মিনিস্টারস অ্যান্ড সেন্ট্রাল ব্যাংক গভর্নরস (জি-২০) হলো বিশ্বের ২০টি দেশের অর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট বা গ্রুপ।

এই গ্রুপের ২০ সদস্যের মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জাপান, মেক্সিকো, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। স্পেন হচ্ছে এই জোটের স্থায়ী আমন্ত্রিত অতিথি।