জুলাই ১৮, ২০২৪

আমাদের সম্পর্কে আরো জানুনঃ

ক্যাসিনোকাণ্ড: বদলি ছাড়া পুলিশ কর্মকর্তাদের আর কোনো শাস্তি হয়নি

উন্নয়ন ডেস্ক –

ঢাকা: ক্যাসিনোকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। তবে তদন্তের পর সংশ্লিষ্ট এলাকার কর্মকর্তাদের সরিয়ে অন্যত্র বদলি ছাড়া আর কোনো শাস্তি হয়নি। পুলিশ বলছে, ডিএমপি থেকে কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়েছে। পুলিশে যা বড় ধরনের শাস্তি বলে বিবেচনা করা হয়।

রাজধানীর মতিঝিল এলাকা ক্যাসিনো ক্লাব পাড়া খ্যাত হিসেবে ওই এলাকার পুলিশের ডিসি, এডিসি, এসি ও ওসির দিকে অভিযোগের আঙুল ওঠে। অভিযোগ ওঠে, তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে মতিঝিলের ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো নামে জুয়া খেলা চালু হয় এবং দিনরাত তা চলত। কোটি কোটি টাকা জুয়া থেকে আয় হতো এবং প্রকাশ্যে পুলিশের নাকের ডগার ওপর চলত যা সবাই জানত। এরপরও পুলিশ তাদের কাউকে কিছু বলত না। বরং মাসিক মোটা অঙ্কের টাকার ভিত্তিতে পুলিশ চুপ থাকত বলে ওই সময় অভিযোগ ওঠে।

ক্যাসিনো পাড়ায় র‌্যাবের অভিযানের পর ডিএমপির পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে কী তথ্য উঠে আসে তা এখনও অজানাই রয়ে গেছে।

তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর একটা বিষয় স্পষ্ট বোঝা যায়, তা হলো মতিঝিল জোনের সব ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া। মতিঝিল বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) আনোয়ার হোসেন, এডিসি শিবলী নোমান, এসি মিশু বিশ্বাসকে বদলি করা হয়। আর মতিঝিল থানার ওসি ওমর ফারুককে সরিয়ে ডিবিতে পাঠানো হয়।

অভিযোগ ওঠার পর ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর প্রথমে তৎকালীন এডিসি শিবলী নোমানকে ডিবিতে বদলি করা হয়। এরপর ৩০ অক্টোবর এক আদেশে তাকে ডিবি থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের নবম আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়।

৩০ অক্টোবরের আদেশে মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার আনোয়ার হোসেনকে দিনাজপুর জেলার পুলিশ সুপার পদে বদলি করা হয়। সহকারী কমিশনার মিশু বিশ্বাসকে পাঠানো হয় ডিবিতে।

অন্যদিকে গুলশানে সেলিমের বাসায় অনলাইনে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক আহমেদকেও সরিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে বদলি করা হয়।

তবে ডিএমপির একজন কর্মকর্তা শনিবার (১৫ আগস্ট) মিডিয়াকে বলেন, ‘ডিএমপিতে কর্মরত যেসব পুলিশ কর্মকর্তাদের ক্যাসিনো সংশ্লিষ্ট অভিযোগে বদলি করা হয়েছে, তারা তো ক্যাসিনো খেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। তার এলাকায় এইসব ক্লাবে খেলত। ক্লাবের ভেতর কি হচ্ছে তা তো ওইভাবে দেখা হতো না। ক্লাবে ওরকম জুয়া খেলা এই প্রথম ধরা পড়েছে। ফলে পুলিশ এখন সতর্ক হয়েছে। আর যেহেতু কিছু কর্মকর্তাকে নিয়ে অভিযোগ উঠেছে সেহেতু সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ কর্মকর্তাদের সরানো হয়েছে।’

তদন্তে কী পাওয়া গেছে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কৃঞ্চপদ রায় বলেন, ‘তদন্তে পুলিশের সঙ্গে ক্যাসিনো সংশ্লিষ্ট কিছু মেলেনি। ক্লাবে জুয়া হচ্ছে এটি জানানো হয়েছিল। ঊর্ধ্বতন কোনো নির্দেশনা না পাওয়ায় বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। যাচাই করার পর যখন নির্দেশনা এসেছে তখনই অভিযান হয়েছে। পুলিশ জানতো শুধু এর কারণেই সবাইকে বদলি করা হয়েছে।’

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু করে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইদিন রাতে যুবলীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক খালেদ ভূঁইয়াকে গুলশান থেকে আটক করে র‌্যাব। এরপর একে একে ঢাকা দক্ষিণের যুবলীগ সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট, জি কে শামীম, শফিকুল ইসলাম, লোকমান হোসেন, সেলিম হোসেন, কাউন্সিলর রাজীব, মইনুল হোসেনসহ রাঘব বোয়ালদের আটক করে। টের পেয়ে গা ঢাকা দেয় ক্যাসিনো ‘গডফাদারখ্যাত দুইভাই এনু রুপন। পরে সিআইডি তাদের গ্রেফতার করে। এখন সবাই তারা কারাগারে রয়েছেন।

ক্যাসিনো সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো র‌্যাব, সিআইডি ও থানা পুলিশ তদন্ত করছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি মামলার চার্জশিট জমা হয়েছে আদালতে।

তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘ক্যাসিনো নিয়ে র‌্যাব যে কটি মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছিলেন তার সবই আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো সিআইডি দেখছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিআইডির ডিআইজি (অরগানাইজড ক্রাইম) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘ক্যাসিনো সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মানি লন্ডারিং মামলায় আমরা এখন পর্যন্ত দুই ভাই খ্যাত এনু রুপনের চার্জশিট আদালতে দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকটি মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে।’

Facebook
Twitter
LinkedIn
Pinterest
Reddit