গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন মন্ত্রী

উন্নয়ন বার্তা ডেস্ক:
গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়েটা ভ্যালস নয়েস। স্টেট ডিপার্টমেন্টের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার অফিসে রিপোর্টকারী ওই কর্মকর্তা আগামী ৩রা ডিসেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছাবেন। ঢাকা এবং ওয়াশিংটনের দায়িত্বশীল কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। মার্কিন সহকারী মন্ত্রীর সফরটি হবে চার দিনের। তবে সফরের অনেক কিছুই এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটা নিশ্চিত যে, সফরকালে সরকার এবং সরকারের বাইরে বিভিন্ন পর্যায়ে সিরিজ বৈঠক হবে তার। রেওয়াজ অনুযায়ী পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার আলোচনা হবে।

এনজিও, আইএনজিও এবং শরণার্থী নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের অধীন সংস্থাগুলোর আঞ্চলিক প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমের সঙ্গেও তার মতবিনিময় হবে। বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয়ে থাকা ১০ লাখের অধিক মিয়ানমার নাগরিকের অবস্থা সরজমিন দেখতে তিনি কক্সবাজার এবং ভাসানচরস্থ শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করবেন। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, স্টেট ডিপার্টমেন্টের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারির কাছে সরাসরি রিপোর্ট প্রদানকারী জনসংখ্যা, শরণার্থী এবং অভিবাসন বিষয়ক ব্যুরোর প্রধান (এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অফ স্টেট) জুলিয়েটা ভ্যালস নয়েস এমন এক সময় বাংলাদেশে আসছেন যখন ঘোষণা দিয়ে রাজপথে শক্তি প্রদর্শনে নেমেছে ১৩ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ এবং সর্ববৃহৎ বিরোধী দল বিএনপি। অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন কোন ফর্মে হবে? বন্ধু এবং উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে এটা স্পষ্ট করা হয়েছে যে জাতীয় নির্বাচন যে ফর্মেই হোক তাতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

নির্বাচনটি অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু, সহিংসতা মুক্ত এবং দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য হতে হবে।

ভোটে জনরায়ের প্রতিফলন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বন্ধু রাষ্ট্রগুলো। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবারের ভোটের আগে এবং পরের রোমাঞ্চকর সময়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে রাখবে বলে আগাম ঘোষণা দিয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কাজটি করবে স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্যুরো এবং অফিসগুলো। যার অন্যতম হচ্ছে জনসংখ্যা, শরণার্থী এবং অভিবাসন বিষয়ক ব্যুরো। স্টেট ডিপার্টমেন্ট প্রকাশিত তথ্য মতে, ওই ব্যুরোর প্রধান জুলিয়েটা ভ্যালস নয়েস মার্কিন ফরেন সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। গত ৩১শে মার্চ ২০২২-এ তিনি ওই পদে আসীন হয়েছেন। তার আগে ২০১৮-২১ সাল পর্যন্ত ফরেন সার্ভিস ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর এবং ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মিজ নয়েস। তিনি ২০১৫-২০১৭ সাল পর্যন্ত ক্রোয়েশিয়ায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং সামরিক জোট ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগে তিনিই ছিলেন মধ্যমণি। তার আগে ২০১৩-২০১৫ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রদূত নয়েস স্টেট ডিপার্টমেন্টে ইউরোপীয় ও ইউরোশিয়ান বিষয়ক ব্যুরোর উপ-সহকারী মন্ত্রী ছিলেন। সে সময় তিনি বারোটি পশ্চিম ইউরোপীয় দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বিষয়টি দেখভাল করতেন। ২০১১-২০১৩ সাল পর্যন্ত স্টেট ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করা অ্যাম্বাসেডর নয়েস পরপর যুক্তরাষ্ট্রের দু’জন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্রিফিং ম্যাটেরিয়াল এবং সফর প্রস্তুতি তত্ত্বাবধান করেছেন। তারও আগে তিনি ২০০৮-১১ পর্যন্ত ভ্যাটিকান সিটিতে মার্কিন দূতাবাসে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ডেপুটি চিফ অফ মিশন) ছিলেন। নয়েসের জন্ম আমেরিকায় হলেও তিনি নিজেকে শরণার্থী বাবা-মায়ের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিয়ে গর্ববোধ করেন।

পঞ্চাশের দশকেরও আগে তার বাবা-মা কিউবা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হয়েছেন। নিকোলাস নয়েস জুনিয়র নামীয় একজন অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন ফরেন সার্ভিস অফিসারের সঙ্গে জুলিয়াটা ভ্যালস নয়েসের সংসার। জনসংখ্যা, শরণার্থী এবং অভিবাসন বিষয়ক মার্কিন সহকারী মন্ত্রী জুলিয়েটা ভ্যালস নয়েস সম্প্রতি একটি গোলটেবিল আলোচনায় বলেছেন, অভিবাসী এবং উদ্বাস্তুদের বস্তুগত এবং নৈতিক সমর্থন ধরে রাখতে এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ইস্পাত কঠিন বৈশ্বিক ঐক্য জরুরি। ইউক্রেনের ওপর ‘প্ররোচনাবিহীন রাশিয়ান আগ্রাসন’ উদ্বাস্তু এবং শরণার্থী সংকটকে দিনে দিনে জটিল করছে জানিয়ে তিনি তাদের ওপর ফোকাস ধরে রাখতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি অনুরোধ জানান। শরণার্থীদের প্রতি সদয় মিজ নয়েসের ঢাকা সফরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবন মান নিশ্চিতে তহবিল ঘাটতি কাটানো এবং তাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সমর্থন জোরদারে আলোচনা হবে।