জুলাই মাসের মজুরি পেলেন বাংলাদেশ জুট মিলের শ্রমিকরা

উন্নয়ন ডেস্ক –

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর ঘোষণা অনুযায়ী জুলাই মাসের মজুরি (বেসিক) ও বকেয়া এক সপ্তাহের মজুরি পেলেন বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে অবস্থিত বন্ধ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ জুট মিলের শ্রমিকরা।

সোমবার রাত ৮টা থেকে শ্রমিকদের স্ব স্ব মোবাইলে জুলাই মাসের ও এক সপ্তাহের মজুরি চলে এসেছে। বুধবারের মধ্যে শ্রমিকরা বৈশাখী ভাতার টাকাও পাবে বলে জানান মিলের প্রকল্প প্রধান।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গত কয়েকদিন আগে সাংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, পাটকল শ্রমিকদের জুন মাসের মজুরি ও সেপ্টেম্বর মাসে সব টাকা পরিশোধের আগে বন্ধ থাকা জুলাই-আগস্ট মাসের মজুরির টাকা শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করা হবে। সে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শ্রমিকরা জুন মাসের ৪ সপ্তাহে বকেয়া মজুরি ও দুই মাসের শিক্ষা ভাতার টাকা পেয়েছিলেন ১৪ জুলাই আর সোমবার রাতে পেলেন জুলাই মাসের মজুরি (বেসিক) ও এক সপ্তাহের মজুরির টাকা।

মিলের শ্রমিক রাসেদ মিয়া জানান, মন্ত্রীর কথা অনুযায়ী আমরা বকেয়া মজুরির ও বন্ধ থাকা জুলাই মাসের মজুরির টাকা পেলাম। তবে আমাদের সব পাওনাদি যেন একসঙ্গে পরিশোধ করে যাতে আমরা একটা কিছু করে চলতে পারি।

সিবিএ সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান জানান, ৯ সপ্তাহের বকেয়া মজুরির মধ্যে জুন মাসের ৪ সপ্তাহের বকেয়া মজুরি, দুই মাসের শিক্ষা ভাতার টাকা এবং জুলাই মাসের মজুরির (বেসিক) টাকা এবং আরো বকেয়া এক সপ্তাহের মজুরির টাকা পেয়েছেন শ্রমিকরা। আমরা বিজেএমসি এর কাছে আবেদন করছি যাতে দ্রুত শ্রমিক-কর্মচারীদের সব পাওনাদি দিয়ে দেওয়া হয়। আসছে ঈদ উল আযহা উপলক্ষে যাতে শ্রমিক-কর্মচারীদের ঈদ বোনাস দেওয়া হয় সে আবেদন জানাচ্ছি।

মিলের প্রকল্প প্রধান ইঞ্জিনিয়ার মতিউর রহমান মণ্ডল জানান, আজ অথবা কালকের মধ্যে শ্রমিকদের বৈশাখী ভাতার টাকাও পরিশোধ করা হবে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পিএফ, গ্র্যাচুইটি ও গোল্ডেন হ্যান্ডশেক সুবিধাসহ সব পাওনার ৫০ শতাংশ স্ব স্ব ব্যাংক হিসাবে এবং বাকি ৫০ শতাংশ স্ব স্ব নামে সঞ্চয়পত্র আকারে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। মজুরি কমিশন-২০১৫ এর ভিত্তিতে সব পাওনা হিসাব করা হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২ জুলাই মিল কর্তৃপক্ষ মিলের উৎপাদন বন্ধে বিজেএমসির নোটিশ দেয়। তাছাড়া কর্তৃপক্ষ মিল বন্ধের পরের দিন অপর একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি দেয়। সেখানে শ্রমিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়, সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে স্থায়ী, বদলি ও অবসর সব শ্রমিকদের গ্র্যাচুইটি ও বিভিন্ন পাওনাদি পরিশোধের লক্ষ্যে জনতা ব্যাংক ঘোড়াশাল শাখায় ব্যাংক হিসাব মিলের নিরাপত্তা বিভাগে জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত ঘোড়াশালের এ জুট মিলটিতে তিন হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন।