জুলাই ১৭, ২০২৪

আমাদের সম্পর্কে আরো জানুনঃ

পড়া ভালোভাবে মনে রাখার ৪ উপায়

উন্নয়ন বার্তা ডেস্ক:

অনেকেই পড়েন বেশি, কিন্তু মনে রাখতে পারেন কম। আবার অনেকে যা পড়েন তা তুলনামূলক ভালোভাবে মনে রাখতে পারেন। এ পুরো ব্যাপারটিই নির্ভর করে পড়ার সময় একজন ব্যক্তি আসলে কী কী কৌশল অবলম্বন করছে তার উপর। পড়ার সময় কিছু কৌশল অবলম্বন করলে পর্যাপ্ত পড়েই ভালোভাবে পড়া মনে রাখা সম্ভব। আবার অন্যদিকে পড়ার সময় কিছু কৌশল সম্পর্কে উদাসীন হলে বেশি পড়লেও ততটা মনে রাখা সম্ভব হয় না। সম্প্রতি এ বিষয়টি নিয়েই কথা বলেছেন আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞানে অধ্যাপক নাওমি এস ব্যারন। গবেষণালব্ধ ফলাফলের মাধ্যমে ব্যারন দিয়েছেন পড়া ভালোভাবে মনে রাখার চারটি কার্যকরী উপায়।
অধ্যাপক ব্যারনের মতে, অল্প শব্দের লেখা পড়তে কম সময় লাগে বলে তা ডিজিটাল স্ক্রিনে পড়া যেতে পারে। কিন্তু ১ হাজারের বেশি শব্দের কোনো লেখা পড়তে হলে অবশ্যই সেটিকে প্রিন্ট করে নেওয়া উচিত। এতে কাগজের পৃষ্ঠায় পাঠকের মনোযোগ বেশি থাকে।

১. শোনার পরিবর্তে পড়ুন

প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় কোনোকিছু পড়ার বিকল্প হিসেবে একই বিষয়টিকে অডিও আকারে শোনারও সুযোগ থাকে। অনেকেই বর্তমানে ব্যস্ততার ওজুহাতে পড়ার বদলে শুনতেই ভালবাসেন। আপাতদৃষ্টিতে ব্যাপারটি ঠিকঠাক মনে হলেও পড়ার থেকে কোনোকিছু অডিও আকারে শোনা কম কার্যকরী। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একটি উপন্যাসের বই পড়লে একটি পাঠক ঐ উপন্যাসটি যতটা আত্মস্থ করতে পারবে তেমনিভাবে একটি উপন্যাসকে অডিও বুক আকারে পড়লে ততটা আত্মস্থ করতে পারবে না।

অধ্যাপক ব্যারনের মতে, অনুধাবনের ক্ষেত্রে অডিও আকারে শোনার চাইতে লিখিত আকারে রিডিং পড়া বেশি কার্যকরী। একইসাথে রিডিং পড়ার সুবিধা এই যে, কোনোকিছু প্রথম পড়ায় না বুঝলে পেছনে যেয়ে সহজেই সেটি পুনরায় পড়া যায় এবং মস্তিষ্ককে কাজে লাগিয়ে সেটিকে সময় নিয়ে অনুধাবন করা যায়।

২. ডিজিটাল স্ক্রিনে নয়, পড়ুন কাগজের পাতায়

প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় পড়ার মাধ্যমে এসেছে আমূল পরিবর্তন। আগে শুধু কাগজের পৃষ্ঠায় পড়া হলেও বর্তমানে ফোন, ট্যাব কিংবা কম্পিউটারের মত ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ডিজিটাল স্ক্রিনে পিডিএফ ফরম্যাটে পড়া যায়। কিন্তু কাগজের পাতায় প্রিন্টকৃত লেখা আর ডিজিটাল স্ক্রিনে থাকা লেখার মধ্যে রয়েছে বিস্তর তফাৎ। প্রতিনিয়ত ডিজিটাল স্ক্রিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার থেকে শুরু করে কম গুরুত্বপূর্ণ সব কাজ করার কারণে ডিজিটাল স্ক্রিনের লেখার প্রতি পাঠকের সিরিয়াসনেস কম কাজ করে। অন্যদিকে কোনোকিছু যখন কাগজের পাতায় লেখা থাকে তখন পাঠক বিষয়টিকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করে মনোযোগ বেশি দেয়।

অধ্যাপক ব্যারনের মতে, অল্প শব্দের লেখা পড়তে কম সময় লাগে বলে তা ডিজিটাল স্ক্রিনে পড়া যেতে পারে। কিন্তু ১ হাজারের বেশি শব্দের কোনো লেখা পড়তে হলে অবশ্যই সেটিকে প্রিন্ট করে নেওয়া উচিত। এতে কাগজের পৃষ্ঠায় পাঠকের মনোযোগ বেশি থাকে। এছাড়াও পাঠক পূর্বে পড়ে আসা কোনো লেখা স্মরণ করার ক্ষেত্রে তা কত পৃষ্ঠার কোথায় পড়েছিলেন সেটির ক্ষেত্রেও কাগজের লেখা কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।

৩. মাল্টিটাস্কিং বন্ধ রাখা

একটি কাজ করার মাঝেই অন্য এক বা একাধিক কাজ করার অভ্যাস অনেকেরই থাকে। আপাতদৃষ্টিতে ব্যাপারটিকে সময়ের সাশ্রয় বলে মনে হলেও বিষয়টি মোটেও তা নয়। বরং মাল্টি টাস্কিং করার বিড়ম্বনা হচ্ছে, একটি কাজ নিখুঁতভাবে করা সম্ভব হয় না।

কোনোকিছু পড়ার ক্ষেত্রেও মাল্টিটাস্কিং নেতিবাচক বলে মনে করেন অধ্যাপক ব্যারন। তিনি তার গবেষণা শেষে বলেছেন যে, আজকাল প্রায়শই পাঠক পড়ার সময় গান শোনেন কিংবা মোবাইলে টেক্সট করে থাকেন যা মোটেই কার্যকরী নয়। বরং পড়ার সময় মাল্টি টাস্কিং করার ফলে মস্তিস্কের ফোকাস পড়া থেকে বারবার বিচ্যুত হয়। ফলে পড়ার প্রতি মনোযোগ কমে যায় এবং দিনশেষে পর্যাপ্ত পড়েও আনুপাতিক হারে তা মনে রাখা যায় না। আর তাই পড়ার সময় আশেপাশের সকল কাজ বাদ দিয়ে বইয়ের প্রতিই পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন ব্যারন।

৪. পড়া পুনঃমূল্যায়ন

কোনোকিছু একনাগাড়ে পড়ে গেলেই হয় না। বরং মনে রাখার জন্য পড়াকে পুনঃমূল্যায়ন জরুরী। যেমন একটি বইয়ে বিভিন্ন চ্যাপ্টার থাকতে পারে। এখন একজন পাঠক যদি একনাগাড়ে এক চ্যাপ্টারের পর আরেক চ্যাপ্টার পড়েই যায় তবে তিনি পড়া দ্রুত শেষ করতে পারবেন ঠিকই। কিন্তু দিনশেষে প্রকৃতপক্ষে কতটুক পড়া মনে রাখতে পারবেন তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।

অধ্যাপক ব্যারনের মতে, একটি পড়া পড়ার সময় প্রতিটি শব্দের প্রতি পাঠকের খেয়াল রাখতে হবে এবং তার অর্থকে পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে। বইয়ের কোনো একটি ভাগের পড়া শেষ হলে ঐ অংশে থাকা কোনো ব্যক্তির পরিচয়, জার্গন কিংবা রেফারেন্স অজানা থাকলে তা খুঁজে বের করে ধারণা হবে। বর্তমানে ইন্টারনেটের উৎকর্ষতায় সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে সার্চ দিয়ে খুব সহজেই প্রায় সবকিছু সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায়। আর তাই কোনোকিছু পড়ে ভালোভাবে মনে রাখতে ক্ষেত্রবিশেষে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সাহায্য নেওয়ার পাশাপাশি বইয়ের পাঠ পুনঃমূল্যায়ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ভাষাবিজ্ঞানের অধ্যাপক ব্যারন।

Facebook
Twitter
LinkedIn
Pinterest
Reddit