ফুটবলারদের ক্যাম্প যেন করোনার হাট

উন্নয়ন ডেস্ক –

জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্পে করোনা আতষ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে করা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এলেও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) তত্ত্বাবধানে অধিকাংশেরই পজিটিভ ফল আসছে। এতে অবাক সংশ্লিষ্টরা।

ব্যক্তিগত পরীক্ষায় পজিটিভ আসায় ক্যাম্পেই আসেননি বিশ্বনাথ ঘোষ। দু’দিনে বাকি ২৩ জন নেগেটিভ ফল নিয়ে এলেও বাফুফের পরীক্ষায় পজিটিভ এসেছে ১৭ জনের। ফলে রিপোর্ট করতে আসা ২৪ জনের মধ্যে ১৮ জন ফুটবলারই কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত (৭৫ শতাংশ)।

আজ রিপোর্ট করতে আসা সাতজন ফুটবলারের মধ্যে যদি আরও কয়েকজন আক্রান্ত হন, তাহলে কিভাবে দলের বাকি খেলোয়াড়দের নিয়ে ক্যাম্প শুরু করবে বাফুফে? তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত নন জাতীয় দলের ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি বলেন, ‘এমনটিই আমি আঁচ করেছিলাম। কারণ বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। অবশ্যই আমার জন্য এটা খারাপ খবর। তবে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ দেখছি না। আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় রয়েছে। এর মধ্যে অনেকে সুস্থ হয়ে ফিরবে বলে বিশ্বাস আমার।’

বুধবার করোনা পরীক্ষার নমুনা দিয়ে কাল পাওয়া রিপোর্টে পজিটিভ এসেছে সাতজন ফুটবলার ও একজন কোচের। ফুটবলাররা হলেন- ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, মানিক হোসেন মোল্লা, মো. আবদুল্লাহ, ইয়াসিন আরাফাত, মনজুরুর রহমান, বিপলু আহমেদ ও মাগবুবুর রহমান। কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সারও পজিটিভ।

দু’বার করোনা পরীক্ষা দিয়ে ক্যাম্পে যোগ দিতে হচ্ছে ফুটবলারদের। গাজীপুরে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ৩৬ ফুটবলারের মধ্যে ৩১ জন নিজেদের উদ্যোগে করোনা পরীক্ষা করিয়েছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে করা বাফুফের কোভিড-১৯ রিপোর্টের সঙ্গে অমিলও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে ব্যক্তি উদ্যোগে করা পরীক্ষার ফল। এতে অবাক সবাই। ব্যক্তি উদ্যোগে করোনা পরীক্ষা করিয়ে পজিটিভ হন বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ।

বুধবার ক্যাম্পের প্রথম দিন এই দুঃসংবাদ আসে। সন্ধ্যার পর আরও তিন ফুটবলার- নাজমুল ইসলাম রাসেল, সুমন রেজা এবং ম্যাথিউস বাবলুর করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়। এর মধ্যে রাসেল ঢাকার বারিধারায় অবস্থিত একটি হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করিয়ে নেগেটিভ রিপোর্ট নিয়ে এসেছিলেন। দ্বিতীয় দিনে করোনাক্রান্ত হন আরও সাত ফুটবলার। তাদের বেশির ভাগই জাতীয় দলের। তারা হলেন- রবিউল হাসান, আনিসুর রহমান জিকো, শহিদুল আলম সোহেল, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সুশান্ত ত্রিপুরা, সোহেল রানা এবং টুটুল হোসেন বাদশা। সোহেল রানা ব্যক্তি উদ্যোগে করোনা পরীক্ষা করিয়েছিলেন ধানমণ্ডির একটি হাসপাতালে। সেখানে করোনার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল তার। সেটি পজিটিভ হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায়।

৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দু’রকম রিপোর্ট দেখে হতবাক সংশ্লিষ্টরা। নেগেটিভ রিপোর্টের ৩০ শতাংশই ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে জানান বাফুফে মেডিকেল কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ডা. আলী ইমরান। তার কথায়, ‘শুধু খেলোয়াড়দের নয়, অন্যদেরও ৩০ শতাংশ নেগেটিভ রিপোর্ট আসে।’ তাই সংশয় জেগেছে বাফুফের কর্তাদের। যে কারণে পজিটিভ হওয়া ফুটবলারদের ফের করোনা পরীক্ষা করানোর কথা ভাবছেন তারা।

এ বিষয়ে বাফুফের সহ-সভাপতি ও ন্যাশনাল টিম কমিটির কো-চেয়ারম্যান তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘ফুটবলারদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর হতাশাজনক হলেও আমরা উদ্বিগ্ন নই। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচের জন্য দু’মাস প্রস্তুতির সুযোগ রয়েছে। যারা আক্রান্ত হয়েছেন, আশা করি তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। আর যারা পজিটিভ হয়েছেন তাদের ফের পরীক্ষা করাব।’ ক্যাম্পে উঠে যেখানে প্রতিপক্ষের মোকাবেলার ছঁক কষার কথা, সেখানে ফুটবলারদের নিয়ে করোনা মুক্তির ছক আঁকতে হচ্ছে বাফুফে কর্তাদের।