বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নের পথে

উন্নয়ন বার্তা প্রতিবেদন:
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি,এমপি বলেছেন, ১০ জানুয়ারি, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। এদিনে বাঙ্গালী জতি স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাদ পেয়েছিল। দীর্ঘ ৫২ বছর পর আজ দেশের অনেক পরিবর্তন হয়েছে, উন্নয়ন হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়ের পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। দেশের মেহনতি মানুষের কল্যাণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ যখন দ্রুতগতিতে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই বাধা হয়ে আসে কোভিড-১৯। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদুর প্রসারী দৃষ্টিভঙ্গী ও সময়োপযোগি সিদ্ধান্তের কারনে আমরা সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছি। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যখন অর্থনৈকিত ভাবে খুবই খারাপ সময় কাটাচ্ছিল, সে সময়ও বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল ছিল। ফলে সঠিক ভাবেই কোভিড-১৯ মোকাবেলা করে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অনেক উন্নত দেশের তুলনায় আমরা ভালো আছি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মেহনতি মানুষের জন্য বঙ্গবন্ধু সারা জীবন সংগ্রাম করে গেছেন, তাদের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশের এক কোটি সিমীত আয়ের পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া টিসিবি’র মাধ্যমে তেল, ডাল, চিনিসহ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয়ের কার্যক্রম শুরু করা হয়।
দেশব্যাপী এখন এককোটি পরিবারকে মাসে একবার এ সকল পণ্য দেয়া হচ্ছে, এতে উপকৃত হচ্ছে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ। পরিস্থিতি স্বাভিাবিক না হওয়া পর্যন্ত মেহনতি মানুষের জন্য এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এজন্য সরকারকে বছরে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের কারনে নতুন করে নিত্যপ্রয়োজনয়ি পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রায় ৯০ ভাগ আমদানি নির্ভর। মানুষকে কিছুটা হলেও স্বস্থি দেয়ার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী ১০ জানুয়ারি ঢাকা আগারগাওঁ এ ২৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ফ্যামিলি কার্ডধারী মানুষের মাঝে চলতি মানুয়ারি মাসের টিসিবি’র ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারা জীবন বাঙ্গালী জাতির স্বাধীনতা এবং অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি আমাদের একটি স্বাধীন দেশ দিয়ে গেছেন। আজ তাঁরই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের বঙ্গবন্ধুর সেই সোনার বাংলা বাস্তবায়নের দিগে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সফল ভাবে জাতিসংঘ ঘোষিত এমডিজি অর্জন করে পুরষ্কৃত হয়েছে। আগামী ২০৩০ সালের আগেই এসডিজি অর্জন করে ২০৪১ সালে বাংলাদেশ একটি উন্নত দেশে পরিনত হবে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ভাবে আগের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালি। নিজের অর্থে বাংলাদেশ বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ এলডিসি গ্রাজুয়েশন করে উন্নয়নশীল দেশে পরিনত হয়েছে, ২০২৬ সালে তা কার্যকর হবে। দেশের চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এসময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশ (টিসিবি) এর চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান, ঢাকা সিটি করপোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাজী মো.ফোরকান হোসেন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও টিসিবি’র সিনিয়র কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।