জুলাই ১৭, ২০২৪

আমাদের সম্পর্কে আরো জানুনঃ

ভবন নির্মাণে দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে নতুন উদ্যোগ

ঢাকায় দুর্যোগের ঝুঁকি এড়াতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এর ফলে বেসরকারি ভবনগুলোর স্থিতিস্থাপকতা বা সহনশীলতা বাড়ানোর জন্য ডিজাইন এবং নির্মাণের গুণগতমান বাড়বে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, “বেসরকারি ভবনগুলোর রেজিলিয়েন্সির (স্থিতিস্থাপকতা/সহনশীলতা) জন্য ডিজাইন এবং নির্মাণের গুণগতমান বৃদ্ধিকরণ” প্রকল্প গ্রহণ করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। মোট ৭০ কোটি ৫৮ লাখ ৫৩ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের এপ্রিলেই প্রকল্পটি শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৭০ কোটি ৫৮ লাখ ৫৩ কোটি টাকার মধ্যে জাইকার অনুদান রয়েছে ৬২ কোটি ৭৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং রাজউকের নিজস্ব অর্থায়ন ৭ কোটি ৮৩ লাখ ১২ হাজার টাকা। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় স্ট্রাকচারাল ও অগ্নিনিরাপত্তা ডিজাইন পর্যালোচনা, নির্মাণকাজ ইন্সপেকশন-সুপারভিশন ও সচেতনতা বৃদ্ধি বিষয়ক গাইডলাইন প্রস্তুতকরণ এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। ভবনের কাঠামোগত দুর্বলতা রোধ এবং অগ্নিদুর্ঘটনা ঝুঁকি প্রশমনে ডিজাইন রিভিউ, নির্মাণকাজ মনিটরিং ও সুপারভিশন বিষয়ে রাজউক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার ৬০ জন কর্মকর্তা বৈদেশিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। বিদেশে প্রশিক্ষিত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দেশে রাজউক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ, ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ এবং ইন্সটিটিউট অব আর্কিটেক্ট বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের জ্ঞান ও দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে ৬০০ জন। এ ছাড়াও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওয়ার্কশপ বা সেমিনার আয়োজন  করা হবে ৩টি।

এদিকে পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটি ২০২২-২৩ অর্থবছরের (সংশোধিত এডিপি) আরএডিপিতে অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, প্রকল্পটি সরকারের নেওয়া পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সাথে সংগতিপূর্ণ। সরকারের ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ৯.৯.১ অনুচ্ছেদ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে নগরায়ণ ও ভবন নির্মাণ কৌশল বিষয়ে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির বিকাশ সাধন ও গবেষণায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের উল্লেখ রয়েছে। এসডিজির ১১ নম্বর অভীষ্টে নিরাপদ, অভিঘাত সহনশীল এবং টেকসই নগর ও জনবসতি গড়ে তোলার উল্লেখ রয়েছে, যার সঙ্গে প্রকল্পটি সংগতিপূর্ণ। সম্প্রতি প্রকল্পটি সরকারের একনেক সভায় অনুমোদন পেয়েছে।

একনেকে অনুমোদন চেয়ে পরিকল্পনা কমিশনের মতামতে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির আওতায় ঢাকা শহরের বেসরকারি ভবনগুলোর ডিজাইন ও নির্মাণকাজের গুণগতমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে গাইডলাইন প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে, যা ভবন নির্মাণে দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য একনেকের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হলো।

প্রকল্পটি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন, এর ফলে নগর এলাকায় দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন করা সহজ হবে। প্রকল্পটির আওতায় ঢাকা শহরের বেসরকারি ভবনগুলোর ডিজাইন ও নির্মাণকাজের গুণগতমান বাড়বে। এতে ভবন নির্মাণে দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

Facebook
Twitter
LinkedIn
Pinterest
Reddit