ভাসানটেক পুনর্বাসন প্রকল্প: মার্কেট গড়ছেন ৩৪ দখলদার

উন্নয়ন ডেস্ক –

রাজধানীর ভাসানটেক পুনর্বাসন প্রকল্পের জমি দখল করে অর্ধশতাধিক দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকান নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ৩৪ জন নেতাকর্মী। দখলদারদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটির ৯৫ নম্বর ওয়ার্ড বিআরপি ইউনিট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন ও ৯৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

প্রকল্পের বাসিন্দারা বলছে, ভাসানটেক থানার নাগালের মধ্যে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে পুনর্বাসন প্রকল্পের লোকজন আতঙ্কে আছে।

এদিকে দখলদারদের বিরুদ্ধে পুনর্বাসন প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ভাসানটেক থানায় জিডিসহ একাধিকবার অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ গত ১২ এপ্রিল ভূমি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভাসানটেক থানার পুলিশকে চিঠি দেয়।

ভাসানটেক পুনর্বাসন প্রকল্পের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তপিন হাসান বলেন, ‘এসব দখলদারিসহ নিরাপত্তাসংক্রান্ত পরিস্থিতি তুলে ধরে থানায় জিডি করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। মামলার আবেদন করেছি, মামলাও নেয়নি। ভূমি মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি অবগত হয়ে থানায় চিঠি দিয়েছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। এর পরও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি। গত ৫ এপ্রিল প্রকল্পের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে অভ্যন্তরের বড় বড় ১৫টি গাছ কাটসহ অন্যান্য স্থাপনা ভেঙে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ’

পুনর্বাসন প্রকল্পে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়া কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তাঁদের ভয়ভীতি দেখিয়ে এসব জমি দখল করে দোকান করা হচ্ছে। প্রকল্পের ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সভাপতি কামাল হোসেন মোল্লা বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিয়েছি। ’

ওই ৩৪ জনের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহসভাপতি রকিবুল ইসলাম রাজু, ভাসানটেক থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন সরদার (আলো আলমগীর), ৮৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি মনির হোসেন, শ্রমিক লীগ সভাপতি মানিক, কৃষক লীগ নেতা মিজানুর রহমান মিঠু, সাইফুল ইসলাম লিটন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ফরহাদ শিকদার ও আলমগীর, যুবলীগ নেত্রী হ্যাপী আক্তার কচি ছাড়াও জহির ভাণ্ডারি, আজহার ও কানা আবুলের নাম রয়েছে।

জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা বলেন, ‘এখানকার আওয়ামী লীগের যত অঙ্গসংগঠন আছে, এর মধ্যে ৩৪ জন মিলেমিশেই সরকারি জায়গায় এসব দোকান তৈরি করছি। এখানে ৩৪ জন ৩৪টি দোকান নেবে। পরে যে যার মতো করে দোকান চালাবে, না হয় ভাড়া দেবে কিংবা বিক্রি করবে। ’ তবে সরেজমিনে গিয়ে অর্ধশতাধিক দোকান তৈরি করতে দেখা গেছে।

আওয়ামী লীগ নেতা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের মোট ৩৪ জন পোলাপাইন মিলা এটা করতাছি। বিএনপি-জামায়াত-শিবির কইরা

খাইবে সরকারি জায়গা, তাইলে আমরা করলে সমস্যা কী?’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন বলেন, ‘এখানে খালি জায়গায় মার্কেট করছি। যখন সরকারের আবার দরকার হবে, এ জায়গা আমরা ছেড়ে দেব। ’

ছাত্রলীগ নেতা রকিবুল ইসলাম রাজু বলেন, ‘সামনে আমাদের সংঠনের সম্মেলন, এ জন্য বিষয়টিতে আমাকে জড়ানো হচ্ছে। আমাদের কিছু ছেলেপেলে এসব মার্কেট নির্মাণে থাকতে পারে। এ জন্যই আমার নাম বলা হচ্ছে হয়তো। ’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে নির্মাণাধীন দোকানের মধ্যে বেশ কয়েকটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। দোকানপ্রতি দুই থেকে সাত লাখ টাকা জামানত নেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক রানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। যদি কোনো অভিযোগ আসে এবং ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়, অবশ্যই সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সাংঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। ’

ভাসানটেক থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘যেহেতু এটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এটি বন্ধ করার বিষয়টি আমাদের আইনের মধ্যে পড়ে না। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা উচ্ছেদ অভিযান চালালে আমরা আইনি সহায়তা করব। এ ছাড়া ভূমি মন্ত্রণালয়ের চিঠি হাতে পেলে আমরা শতভাগ ব্যবস্থা নেব। ’