জুন ১৩, ২০২৪

আমাদের সম্পর্কে আরো জানুনঃ

রক্তাক্ত জনপদে শান্তির বাহক ইসরাফিল আলম

উন্নয়ন ডেস্ক –

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইসরাফিল আলম রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি…….রাজেউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৫৩ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও ২ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় ফুসফুস ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়ে তাঁকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা লাইফ সাপোর্টে রাখেন। আজ সোমবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন স্ত্রী সুলতানা পারভীন বিউটি।

ইসরাফিল আলমের স্ত্রী সুলতানা পারভীন বিউটি জানান, ৬ জুলাই অসুস্থতা নিয়ে তিনি প্রথম এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তখন তার করোনা ধরা পড়ে। এখানে কিছু দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি বাড়ি চলে যান। পরে পরীক্ষা করে করোনা নেগেটিভ আসে। এ অবস্থায় গত ১৭ জুলাই আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত শুক্রবার রাত ১১টা দিকে তার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন, বাসায় আনার পর ১৭ জুলাই তার কাশির সঙ্গে রক্ত আসে। ওই দিন আমরা তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করি। এছাড়াও তিনি হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

একসময়ের রক্তাক্ত জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল জেলার রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলা। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় সর্বহারারা দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে এই জনপদে মানুষকে জবাই করে রাখত। এরপর জেএমবির তাণ্ডব। অশান্তি আর হাহাকারের বাতাস বইতে শুরু করে এই অঞ্চলে। ঠিক তখনই আবির্ভাব ঘটে শ্রমিক নেতা ইসরাফিল আলমের।

২০০১ সালের নির্বাচনে প্রথমে তার পরাজয় হয়। এরপর যখন সর্বহারা ও জেএমবির অত্যাচার মাত্রাতিরিক্ত হয়ে গেল তখন এই অঞ্চলের মানুষ ২০০৮ সালে নৌকা মার্কায় ৩৬ বছর পর ভোট দিয়ে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী আলমগীর কবিরকে পরাজিত করে বিএনপির দুর্গ হিসেবে খ্যাত নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনটিতে বিজয়ী করেন শ্রমিক লীগ নেতা মো. ইসরাফিল আলমকে। এরপর ২০১৮ সালেও তিনি সেই আলমগীর কবীরকে পরাজিত করে তৃতীয় বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ইসরাফিল আলম তার দেওয়া কথা রেখেছেন। তিনি এমপি হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় এই রক্তাক্ত জনপদ থেকে জবাই, হানাহানি, লুণ্ঠন, ছেলে ও স্বামী হারানোর কান্না থেকে রক্ষা করেছেন রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার মানুষকে। বর্তমানে তার চৌকস নেতৃত্বের কারণে এই অঞ্চলে শান্তির সুবাতাস বইছে। যার কারণে এই অঞ্চলের মানুষ কখনই তার বিকল্প খুঁজতে চাননি।

তিনি নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনে টানা তিনবার আওয়ামী লীগের এমপি হিসেবে নেতৃত্ব প্রদান করছেন। এই ক্ষণজন্মা ব্যক্তির জন্ম রাণীনগর উপজেলার গোনা ইউনিয়নের ঝিনা গ্রামে ১৯৬৭ সালে মরহুম আজিজুর রহমানের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তিতাস গ্যাস কম্পানিতে মিটার রিডার হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন চাকরি করেছেন। তার রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু প্রয়াত আহসান উল্লাহ মাস্টার। তিনি ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। এরপর চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি পুরোপুরি রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

সাংসদ ইসরাফিল আলমের সহধর্মিণী সুলতানা পারভীন বিউটি বলেন, ইসরাফিল আলম আত্রাই-রাণীনগর উপজেলার মানুষদের জন্য নিজের জীবন বাজি রেখে এই অঞ্চলের মানুষের সুখ আর শান্তির দায়ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। দীর্ঘসময় তিনি এই অঞ্চলের মানুষদের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছেন। নিজের এলাকার মানুষদের শান্তির কথা ভেবে তিনি সংসার, নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের ভুলে থাকতেন। করোনাভাইরাসের এই সংকটময় সময়ে তিনি পরিবারকে ত্যাগ করে দীর্ঘ প্রায় ৩ মাস তিনি এসে রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার মানুষদের পাশে থেকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন। তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। আমাদের সকলকে কাঁদিয়ে তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন। আপনারা তার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। যেন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন এবং জান্নাতবাসী করেন।

Facebook
Twitter
LinkedIn
Pinterest
Reddit