শিক্ষার্থীরা ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে গড়ে উঠতে পারলেই গড়ে উঠবে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ – ড. আনিসুজ্জামান

আমাদের সমাজে দেখতে হবে যেন পরীক্ষায় নকল না হয়, একজনের পরীক্ষা অন্য একজন যেন না দেয়, ভর্তি-বাণিজ্য যেন বন্ধ হয়। প্রথম জীবনে যদি দুর্নীতিবিরোধী ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করা যায় তাহলে ভবিষ্যত প্রজন্ম হবে দুর্নীতিবিরোধী। দেশ হবে দুর্নীতিমুক্ত। এসব কথা বলেছেন, জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।

সোমবার বাংলাদেশ শিল্পকালা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা অডিটরিয়ামে ‘শিক্ষার্থী ও সততা সংঘের সমাবেশ’শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন ।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে গড়ে উঠতে পারে তাহলেই দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে এককভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। দুর্নীতি দূর করতে হলে সম্মিলিত প্রয়াস লাগবে, সকলের সহযোগিতা লাগবে। আমরা আশা করব, আজকের দিনে সকলে দুর্নীতিবিরোধী শপথ নেব এবং ভবিষ্যত জীবনে তার প্রতিফলন ঘটাবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বাংলাদেশ থেকে একদিন দুর্নীতি দূর হবে এবং সত্যিকারের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারব।’

সভায় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ, দুদক কমিশনার (তদন্ত) এ এফ এম আমিনুল ইসলাম ও সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে ১৭তম আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসটি কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে দিবসটি উদ্বোধন করেন সংস্থাটি। এরপর সকালে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের সামনে মানববন্ধন করে দুদক।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুর্নীতির মাধ্যমে যে সম্পদ গড়ে তোলো হয় তা আসলে জনগণের সম্পদ। সেই জনগণের সম্পদ দেশে-বিদেশে যেখানেই থাকুক না কেন, আপনি সুখে ভোগ করবেন? সেই সুখে থাকার ব্যবস্থা আমরা রাখব না।’

‘আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ’ এই প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একযোগে উদযাপিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস।

জাতিসংঘ ২০০৩ সালে ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ঘোষণা করে। জাতিসংঘ সারা বিশ্বকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যেই ইউনাইটেড ন্যাশনস কনভেনশন অ্যাগেইনস্ট করাপশন (আনকাক) এর মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বাংলাদেশ আনকাকের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে দুদক ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন শুরু করে। যদিও সরকারিভাবে ২০১৭ সাল থেকে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।