শেয়ারবাজার: লেনদেন ৭ মাসে সর্বোচ্চ

উন্নয়ন ডেস্ক –

অস্থিরতা কাটিয়ে আবারও ঊর্ধ্বমুখী ধারায় শেয়ারবাজারের সূচক ও লেনদেন। গতকাল সোমবার প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর লেনদেন ১ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা ছাড়ায়। এ লেনদেন গত ২৩ জানুয়ারির পর বা সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক টানা পাঁচ কার্যদিবস ১৫১ পয়েন্ট বেড়ে এক মাস পর ফের ৬৩০০ পয়েন্টের মাইলফলক পার করেছে।

বাজার-সংশ্নিষ্টরা জানান, কিছু বড় বিনিয়োগকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নতুন করে বিনিয়োগ শুরু করেছেন। অনেক নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারী সক্রিয় হচ্ছেন। এমনকি গত বছরের অক্টোবর থেকে গেল জানুয়ারির মধ্যে যেসব বড় বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগ তুলে নিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন শেয়ার কিনছেন।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, সার্বিকভাবে লেনদেন বাড়লেও গুটিকয় শেয়ারে ভর করে তা বাড়ছে। এমনকি দরবৃদ্ধিও অল্প কিছু শেয়ারে সীমাবদ্ধ থাকছে। অনেক শেয়ার এখনও ফ্লোর প্রাইস বা ফ্লোর প্রাইসের কাছাকাছি দরে কেনাবেচা হচ্ছে এবং শেয়ার কেনাবেচাও তুলনামূলক অনেক কম। বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস কর্মকর্তারা জানান, এখন ‘আইটেম ধরে’ অর্থাৎ নির্দিষ্ট শেয়ার নিয়ে বড় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ পুরো বাজার নিয়ে নয়।

গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৩৮০ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৬৪টির দর বেড়েছে, কমেছে ১১৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৯৯টির দর। অপরিবর্তিত থাকা শেয়ারের মধ্যে ৫৯টি ফ্লোর প্রাইসে কেনাবেচা হয়েছে। খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মোট লেনদেনে অংশ কমলেও কিছুদিনের মতো গতকালও বস্ত্র খাত ছিল লেনদেনের শীর্ষে। অন্য অধিকাংশ খাতের সার্বিক লেনদেন বাড়লেও বেশি বেড়েছে প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে। বস্ত্র খাতের ৫৮ কোম্পানির ২৫৩ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়, যা রোববারের তুলনায় সাড়ে ৪৮ কোটি টাকা বেশি। তবে রোববারের তুলনায় মোট লেনদেন প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়লেও এ খাতের লেনদেন মোটের ১৭ দশমিক ১৬ শতাংশ ছিল, যা রোববার ছিল ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। এ খাতের অধিকাংশ শেয়ারের কমবেশি কেনাবেচা হলেও অপেক্ষাকৃত বেশি শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে মালেক স্পিনিং, ফারইস্ট নিটিং, ম্যাকসন্স স্পিনিং এবং কাট্টলী টেক্সটাইলের।

খাতওয়ারি লেনদেনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকা বিবিধ খাতে গতকাল ২০৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় সাড়ে ২১ কোটি টাকা বেশি। তবে মোট লেনদেনে এ খাতের অংশ সাড়ে ৩ শতাংশ কমে ১৪ শতাংশের নিচে নেমেছে। এ খাতের বেক্সিমকো লিমিটেডের ১২৬ কোটি টাকারও বেশি শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। ওষুধ ও রসায়ন খাতের লেনদেন পৌনে ১২ কোটি টাকা বেড়ে প্রায় ১৭৪ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে এবং মোট লেনদেনে এ খাতের অংশ পৌনে ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। একইভাবে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের লেনদেন মোটের আড়াই শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে ১৩৩ কোটি টাকা বা ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এ ছাড়া বীমা খাতের লেনদেনও ৪৯ কোটি টাকা বেড়ে প্রায় ৯৯ কোটি টাকা হয়েছে।

শেয়ার কেনাবেচায় মিশ্রধারায় ছিল ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা খাতের শেয়ার। বস্ত্র, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের দর বৃদ্ধি ও দর হারানো শেয়ার সংখ্যা ছিল প্রায় সমান। কিন্তু জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, ওষুধ ও রসায়ন, সিমেন্ট, সিরামিক, কাগজ ও ছাপাখানা, ভ্রমণ ও অবকাশ এবং বিবিধ খাতের বেশিরভাগ শেয়ারের দাম বেড়েছে। তবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বেশিরভাগ শেয়ার দর হারিয়েছে। ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত দর বেড়েছে মোট ১১ কোম্পানির শেয়ারের। এর মধ্যে সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দর বা এর কাছাকাছি মূল্যে কেনাবেচা হয়েছে ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ওরিয়ন ইনফিউশনস, সমতা লেদার, মেট্রো স্পিনিং, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল এবং ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং কোম্পানির শেয়ার। ৫ থেকে ৭ শতাংশ বেড়েছে জিপিএইচ ইস্পাত, ফার্মা এইডস, ওরিয়ন ফার্মা, ন্যাশনাল পলিমার ও তাকাফুল ইন্স্যুরেন্সের।