জুলাই ১৭, ২০২৪

আমাদের সম্পর্কে আরো জানুনঃ

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে – ‘স্যাবোটাজ’

পিসিআর মেশিন সুরক্ষা সামগ্রী কেনা আটকে দিল সিন্ডিকেট!
উন্নয়ন ডেস্ক –

করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার জন্য গত এপ্রিলের মাঝামাঝি একটি পিসিআর মেশিনের চাহিদার কথা জানিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে আবেদন করে যশোর মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। প্রথম দফায় সাড়া না পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ এপ্রিলের শেষ দিকে আবারও আবেদন করেন। ওই পিসিআর মেশিন আজও পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। অথচ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ গত ১ জুলাই অবসরে চলে গেছেন।
অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন মিডিয়াকে বলেন, যশোর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহ করে তা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু নমুনা পরীক্ষার পুরো চাহিদা তা ওই প্রতিষ্ঠানের ল্যাবের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই একটি পিসিআর মেশিনের জন্য অধিদপ্তরে দুই দফায় আবেদন করি। অধিদপ্তর থেকে আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। ওই মেশিনটি এখনও পাওয়া যায়নি। মেশিনটি পেলে নমুনা পরীক্ষার পরিধি আরও সম্প্রসারণ হতো। এতে মানুষ উপকৃত হতো।
একইভাবে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষও পিসিআর মেশিন পায়নি। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান মিডিয়াকে বলেন, পিসিআর মেশিন না থাকায় নমুনা সংগ্রহের পর তা যশোর ও খুলনায় পাঠানো হয়। ওই রিপোর্ট পেতে রোগীদের অনেক সময় লেগে যায়। এ জন্য একটি পিসিআর মেশিন চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু এখনও মেশিন পাইনি। এ দুই প্রতিষ্ঠানের মতো ঢাকা মেডিকেল কলেজ, মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ, কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ, নোয়াখালী আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, খুলনা মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ থেকে পিসিআর মেশিনের চাহিদা আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর মেশিনগুলো কেনার উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্টরা জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের বাধার কারণে পিসিআর মেশিনসহ সুরক্ষা সামগ্রীগুলো কেনা সম্ভব হয়নি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি করে মাসের পর মাস ধরে ফাইল চালাচালি করে প্রথমে ওই চক্রটি কেনার প্রক্রিয়াটি মন্থর করে দেয়।
এ ছাড়া অর্থবছরের শেষদিকে পিসিআর মেশিন, পিপিই, এন-৯৫ মাস্কসহ চিকিৎসা সুরক্ষা সামগ্রী কেনার জন্য যে প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়, তাতে টাকার অঙ্ক ও তা ব্যয়ের সময়সীমার ক্ষেত্রে ভুল ছিল। সেই ভুল সংশোধনের জন্য অধিদপ্তর থেকে চিঠি দেওয়া হলেও তাতে সাড়া দেয়নি মন্ত্রণালয়। এভাবেই নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পিসিআর মেশিনসহ অন্যান্য চিকিৎসা সুরক্ষা সামগ্রী কেনার প্রক্রিয়া আটকে দেওয়া হয়েছে। এসব সামগ্রী কেনার জন্য বরাদ্দ অর্থও গত ৩০ জুন ফেরত চলে গেছে। এতে এসব সামগ্রী কেনা নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের একটি অংশ করোনা সামগ্রী কেনাকাটায় অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাদের আস্থাভাজন কয়েকজন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে আছেন। তারাই কেনাকাটা আটকে দিয়েছেন। কারণ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে পণ্য সামগ্রীর যে মূল্য নির্ধারণ করে পাঠানো হয়েছে, তা ইতোপূর্বে সিএমএসডির কেনা পণ্যের তুলনায় অনেক বেশি। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ওই সামগ্রী কেনা হলে সিএমএসডির ক্রয় প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি প্রকাশ হয়ে পড়ত। এর ফলে জড়িতরা ফেঁসে যেতেন। এ কারণেই পুরো প্রক্রিয়াটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
দেশে করোনাভাইরাস মহামারির এই সময়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে করোনা প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটি প্রতিদিন গড়ে ৩০ হাজার নমুনা পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। নমুনা পরীক্ষার তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখা যায়, একদিনে সর্বোচ্চ ১৮ হাজারের কাছাকাছি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। কয়েকদিন ধরে তা আবার কমে আসছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ৯৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করতে পেরেছে সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
নমুনা পরীক্ষা নিয়ে সংকটের চিত্র তুলে ধরে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেছিলেন, পিসিআর মেশিনের সংকটের কারণে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি করে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনাকাটা বাধাগ্রস্ত করার প্রক্রিয়াকে ‘স্যাবোটাজ’ বা নাশকতা বলে মনে করেন স্বাস্থ্য খাতের সংশ্নিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
তাদের অভিমত, সরকার নমুনা পরীক্ষার পরিধি বাড়াতে চাইলেও মন্ত্রণালয় থেকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কারা, কী কারণে এই বাধার সৃষ্টি করছেন, তা জানা জরুরি। এটি সরকারের বিরুদ্ধে কোনো মহলের স্যাবোটাজও হতে পারে। সুতরাং সংশ্নিষ্টদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
জরুরি সামগ্রী কেনা যেভাবে আটকে গেল :কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, পিসিআর মেশিনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সুরক্ষা সামগ্রী কেনার জন্য স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের মধ্যে গত ১৯ এপ্রিল থেকে ফাইল চালাচালি শুরু হয়। চার দফা ফাইল চালাচালির পর অর্থবছরের শেষ দিকে ২১ জুন এসব সামগ্রী কেনার প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠি পাঠানো হয়।
ওই চিঠিতে বলা হয়, চলতি ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের জিওবি (উন্নয়ন) খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ দ্বারা দেশের আটটি বিভাগের জন্য (আটটি) প্যাকেজের মাধ্যমে কভিড-১৯ সন্দেহজনক রোগীদের নমুনা সংগ্রহের জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা সামগ্রী ক্রয় বা সংগ্রহের জন্য মোট তিন কোটি ৮৩ লাখ ১৮ হাজার টাকার ক্রয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করা হলো। চিঠিতে জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির প্রয়োগেরও অনুমোদন দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের (ক্রয় ও সংগ্রহ-১) শাখার উপসচিব শাহ আলম মুকুলের স্বাক্ষর করা ওই চিঠিতে ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ১১টি শর্তারোপ করা হয়। চিঠি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ‘১১ নম্বর শর্তে গিয়ে তিনি লেখেন- অব্যয়িত অর্থ ২০১৮ সালের ৩০ জুনের মধ্যে আবশ্যিকভাবে সমর্পণ করতে হবে। বর্তমানে ২০২০ সাল চলছে। গত ৩০ জুন অর্থবছর শেষ হয়েছে। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, ২০২০ সালের ৩০ জুন না লিখে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ২০১৮ সালে অব্যয়িত অর্থ সমর্পণের কথা লেখা হয়েছে।
একইভাবে ১০টি পিসিআর মেশিন, এন-৯৫ মাস্ক ও পিপিই ক্রয়ের জন্য ৩৭ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ টাকার ক্রয় পরিকল্পনায় প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য গত ২ জুন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু ২১ জুন চিঠি পাঠিয়ে এসব পণ্যসামগ্রী কেনার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে তিন কোটি ৮৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা বরাদ্দ করে প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা সামগ্রীর পরিমাণ একই রাখা হয়।
উপসচিব শাহ আলম মুকুলের স্বাক্ষরিত প্রশাসনিক অনুমোদন সংক্রান্ত ওই চিঠিতে টাকার অঙ্ক ও তারিখে অসামঞ্জস্য থাকায় বিপাকে পড়ে যান সংশ্নিষ্টরা। এই চিঠির পরই মূলত পিসিআর মেশিন, মাস্ক ও পিপিই ক্রয়ের সব প্রক্রিয়া আটকে যায়। গত ২৩ জুন ওই চিঠি সংশোধনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও কোনো জবাব আসেনি। এতে করোনা মোকাবিলার জন্য জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী কেনা সম্ভব হয়নি। পুরো অর্থও ফেরত গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এএইচএম এনায়েত মিডিয়াকে বলেন, আর্থিক বরাদ্দের অনুমোদন এবং অব্যয়িত অর্থ সমর্পণের বিষয়ে নির্দেশনায় ভুল থাকায় সমস্যার সৃষ্টি হয়। চিঠি পাঠিয়ে মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি জানানোও হয়। কিন্তু কোনো জবাব না পাওয়ায় ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

এ চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে শাহ আলম মুকুল মিডিয়াকে বলেন, ‘এটি প্রিন্ট মিসটেক হতে পারে। ২০২০ সাল হবে। এ ধরনের ভুল হরহামেশাই হয়। সেটি আবার সংশোধনও করা হয়। হয়তো কম্পিউটার অপারেটর আগের পিসি থেকে নিয়ে আসায় (কপি করায়) তারিখটি ভুল করেছে। এটি আমরা ঠিক করে দেব। সংশ্নিষ্ট শাখা থেকে বিষয়টি জানালেও এটি সংশোধন করে দেওয়া যেত।’
আর্থিক বিষয়ে ভুলের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘কোন প্রেক্ষাপটে টাকা কমানো হয়েছে, তা ফাইল না দেখে বলা যাচ্ছে না। এই ফাইল তো আমার ইচ্ছেমতো অনুমোদন করতে পারি না। এটি সচিব, মন্ত্রী পর্যন্ত গিয়ে অনুমোদন হয়ে আসে। তারপর আমরা শুধু স্বাক্ষর করি।’
সরকারি চিঠিতে ভুলের কারণে করোনা মোকাবিলায় জরুরি কাজ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তার দায় আছে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের প্রিন্টিং মিসটেক তো আপনাদেরও হতে পারে। আমরা তো আর একটি কাজ নিয়ে বসে থাকি না। অনেক কাজ করতে হয়। এজন্য ভুল-ত্রুটি হতেই পারে। পত্রিকায় তো অজস্র বানান ভুল হয়। এজন্য আমরা কি বলি যে আপনাদের বানান ভুল কেন হলো? সুতরাং আমরা আগে দেখি তারপর সংশোধন করে দেব।’ ওই চিঠি সংশোধনের জন্য অধিদপ্তর থেকে ২৩ জুন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে- উল্লেখ করে বক্তব্য জানতে চাইলে শাহ আলম মুকুল বলেন, ‘ফাইলপত্র না দেখে তিনি বিষয়টি বলতে পারবেন না।’
ফাইল চালাচালি করেই সময় পার :দেশের ১০টি মেডিকেল কলেজের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন (এমইএএইচএমডি)’ শাখা জরুরি প্রয়োজনে কভিড-১৯ সন্দেহজনক রোগীদের নমুনা সংগ্রহের জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা সামগ্রী ক্রয়ের পরিকল্পনা করে। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ৩৭ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
এই ক্রয় প্রক্রিয়ার প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য গত ১৯ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠানো হয়। তখন এসব ক্রয় প্রক্রিয়া সিএমএসডির মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছিল। ওই অবস্থায় এক মাস পর ১৯ মে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠিয়ে সিএমএসডির অনাপত্তির নিতে বলা হয়। সিএমএসডির অনাপত্তি নিয়ে ১ জুন মন্ত্রণালয়ে আবার চিঠি পাঠায় অধিদপ্তর। এরপর ২১ জুন অর্থবছরের শেষ দিকে এসে ক্রয়ের অনুমোদন দেয় মন্ত্রণালয়। কিন্তু তাতে অব্যয়িত অর্থ ফেরতের বিষয়ে ২০১৮ সালের ৩০ জুন এবং টাকার অঙ্কে ভুল লেখা হয়েছে। এটি সংশোধনের জন্য চিঠি দিলেও তাতে সাড়া দেয়নি মন্ত্রণালয়।
সাবোটাজ হতে পারে, মত বিশেষজ্ঞদের :মহামারির সময়ে এ ধরনের ঘটনা সাবোটাজ কিনা, তা খতিয়ে দেখার পক্ষে মত দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এভাবে জটিলতা সৃষ্টি করে রাখার উদ্দেশ্য কী, তা খুঁজে বের করা প্রয়োজন। কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ এই কাজটি করে থাকলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। যাতে ভবিষ্যতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কেউ অবহেলা ও দুর্নীতি করার সাহস না পায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক মিডিয়াকে বলেন, জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনায় বাধা সৃষ্টি করার কারণ দ্রুত বের করা প্রয়োজন। এর পেছনে কী কারণ রয়েছে, তাও সবার জানা প্রয়োজন। ব্যক্তি স্বার্থে যদি কেউ এই জনস্বার্থবিরোধী কাজটি করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক মিডিয়াকে বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত নন। সংশ্নিষ্ট বিভাগে খোঁজ নিয়ে তিনি এ বিষয়ে বলতে পারবেন।

সূত্রঃ সময়কাল

Facebook
Twitter
LinkedIn
Pinterest
Reddit