হাসপাতালে ক্রিটিকাল রোগী নাই : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

উন্নয়ন ডেস্ক –

দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার অনেক ভালো হয়েছে, একারণে হাসপাতালগুলোতে এখন ক্রিটিকাল রোগী আর নেই বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আজ বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আপনি পরীক্ষায় কত নম্বর পেলেন, এটার ওপর নির্ভর করে আপনি পরীক্ষা কেমন দিয়েছেন। আমরা মনে করি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভালো নম্বর পেয়েছে। নম্বরটা কী? আমাদের দেশে করোনায় মৃত্যুর হার মাত্র দেড় শতাংশ। এটা হলো সবচেয়ে বড় নম্বর। যেখানে আমেরিকাতেও মৃত্যুর হার ছয় শতাংশ, ইউরোপে ১০ শতাংশ, সারাবিশ্বের গড় ছয় শতাংশ। আমরা কাজ ভালো করেছি কি না, তার বড় মানদণ্ড এটাই।’

বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে রোগী সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন হাসপাতালে অর্ধেক রোগী। রোগীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। সকলেই চায় যে রোগীর সংখ্যা কমে যাক। অর্থাৎ ক্রিটিকাল রোগী আর নাই। আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন, নেই কেন? কারণ চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক ভালো হয়েছে। ঘরে থেকে লোকে চিকিৎসা নিচ্ছে।’

সরকারের টেলিমেডিসিন সেবাও দারুণ কাজ করছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টেলিমেডিসিন সেবা যেটা আমরা দিচ্ছি, সেটা খুব ভালো কাজ করছে। চার হাজারেরও বেশি চিকিৎসক টেলিমেডিসিন সেবা দিচ্ছেন। মেডিসিনের যে প্রয়োগ সেটাও খুব ভালো হচ্ছে। সেকারণে ঘরে থেকে লোকে সেবা পেয়ে যাচ্ছেন। যারা খুব মুমূর্ষু রোগী বা ক্রিটিকাল অবস্থা, তারা হাসপাতালে আসছেন।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালে যে হাই ফ্লো ন্যাসাল ক্যানুলা অনেক হাসপাতালেই লেগে (ব্যবস্থা হয়েছে) গেছে। আরো অনেক হাসপাতালে এর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ৭৮টা অক্সিজেন সেন্ট্রাল লাইন হাসপাতালে আমরা স্থাপন করছি। যেটা আগে ছিল না। আগামী এক-দেড় মাসের মধ্যে এটা সম্পন্ন হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আগের মহাপরিচালক সম্পর্কে নানান বিতর্ক ছিল, নতুন মহাপরিচালক নিয়োগে সতর্ক থাকবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই, আমরা সকলে মিলে একটা আলোচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ বিষয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমরা আলোচনা করবো এবং সিদ্ধান্ত নিবো। আমরা প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথেও এ বিষয়ে আলোচনা করে নিবো।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদত্যাগ করেছেন। শিগগিরই আরো কোন পরিবর্তন আসবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘যেখানে যেখানে পরিবর্তন প্রয়োজন সে বিষয়গুলো আমরা অবশ্যই দেখবো। আমরা চাই যে এখানে সুষ্ঠু পরিচালনা হোক, মানুষ সেবা পাক।’

এসময় আত্মপক্ষ সমর্থন করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কিন্তু মানুষের সেবা নিয়েই কাজ করে গেছি গেল পাঁচ মাস। মাঠে কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ই ছিল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে অনেকে সাহায্য করেছে। আমরা ভালো করেছি কি না, তা সাংবাদিক ভাইয়েরা ভালো বুঝতে পারেন।